
যেকোন ধরনের প্রপার্টি ক্রয় ও বিক্রয় করা দু’টিই বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। মাথাগোজার ঠাই হোক কিংবা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, এই শহরের বেশিরভাগ মানুষই ফ্ল্যাট কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সাধ ও সাধ্যের সামঞ্জস্য রেখে অনেকেই ঝুকছেন ফ্ল্যাটের দিকে। বর্তমানে ফ্ল্যাট তৈরি ও বিক্রির জন্য অসংখ্য ডেভলপার ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গড়ে উঠেছে। যাদের থেকে সরাসরি ফ্ল্যাট কেনা যায়।
তবে যেকোন ডেভলপার বা রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্ল্যাট কেনার আগে অবশ্যই যথাযথ সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। সকল ধরনের লিগ্যাল ডকুমেন্টস দেখে নিয়েই কেবল ফ্ল্যাট/ প্লট ক্রয় করা উচিত। নয়ত ভবিষ্যতে আপনাকে নানান জটিলতায় পরতে হতে পারে।
ফ্ল্যাট কেনার আগে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করে অবশ্যই একজন লিগ্যাল এক্সপার্টের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করতে হবে।
ফ্ল্যাট কেনার আগে অবশ্যই যে কয়টি দিকে খেয়াল রাখতে হবে -
১। যে প্রতিষ্ঠানের বা ব্যক্তির ফ্ল্যাটটি কিনতে যাচ্ছেন তার মালিকানা ঠিক আছে কি না, প্রথমে সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। সর্বশেষ তথ্য মতে মালিকানায় সঠিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে সিএস, আর এস সহ অন্যান্য খতিয়ান ঠিক আছে কিনা যাচাই করে নিন।
২। জমিটির নামজারি ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। বিক্রয়কারী ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিক হয়ে থাকলে বণ্টনের মোকদ্দমা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
৩। জমিটির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
৪। ফ্ল্যাটটির প্রস্তাবিত নকশার সাথে মূল নকশার আদৌ কোন সাদৃশ্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।
৫। ফ্ল্যাটটির রাজউক অনুমোদিত সকল সনদ পত্র দেখে নিতে হবে।
৬। ফ্ল্যাটটি সরকারি কোন খাসজমিতে বা অর্পিত সম্পত্তিতে কিনা তা দেখে নিতে হবে।
৭। ঋণের জন্য ফ্ল্যাটটি কোনো ব্যাংকের কাছে বন্ধক আছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।
৮। কোন প্রকার মধ্যস্থতাকারীর থেকে ফ্ল্যাট না কিনে সরাসরি ফ্ল্যাটের মালিকের সাথে আলোচনা করে সব জেনে নেওয়া ভালো।
৯। অবশ্যই স্পষ্ট করে সব শর্ত উল্লেখ করে আইনগত উপায়ে চুক্তি সম্পাদন করে একটি কপি নিজের কাছে রাখতে হবে।
১০। যেকোন প্রয়োজনে ফ্ল্যাটটি বিক্রি করার প্রয়োজন হতে পারে তাই ফ্ল্যাট কেনার আগে এর রিসেল ভেল্যু জেনে নিন।
আরো যেসব বিষয় মাথায় রাখা দরকার
স্থান - যে স্থানে ফ্ল্যাট কিনতে চাচ্ছেন সেখান থেকে আপনার অফিস, বাচ্চাদের স্কুল, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, পার্ক, বাজার সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব নাগরিক সুবিধাগুলো সহজলভ্য কিনা তা যাচাই করে নিন।
ফ্ল্যাটের আকৃতি ও তলা - পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ফার্নিচার ইত্যাদি সকল দিক বিবেচনায় রেখে ফ্ল্যাটের সাইজ নির্ধারণ করবেন। কত তলায় ফ্ল্যাটটি কিনতে চাচ্ছেন সেটিও মাথায় রাখবেন।
বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পদ্ধতিতে জমি পরিমাপ করা হয়। বাংলাদেশে জমি পরিমাপের সবচেয়ে জনপ্রিয় ২টি পদ্ধতি হচ্ছে -
- শতাংশ ও কাঠা
চুক্তিপত্রের খুটিনাটি - ফ্ল্যাট কেনার আগে অবশ্যই চুক্তিপত্রের সাথে কী কী শর্তাবলি যুক্ত আছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে যাচাই বাছাই করে নেবেন।


